<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss"
	xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#"
	>

<channel>
	<title>টিক্কা খান &#8211; Bangladesh Genocide Archive</title>
	<atom:link href="https://www.genocidebangladesh.org/tag/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.genocidebangladesh.org</link>
	<description>An online archive of chronology of events, documentations, audio, video, images, media reports and eyewitness accounts of the 1971 Genocide in Bangladesh in the hands of Pakistan army.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 21 Jul 2008 11:18:50 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	
<site xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">95479874</site>	<item>
		<title>লাখ লাখ মানুষের যাত্রা</title>
		<link>https://www.genocidebangladesh.org/%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%96-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%96-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Webmaster]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 21 Jul 2008 11:18:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Newspaper/Magazine Articles]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা আর্কাইভ]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[ইয়াহিয়া]]></category>
		<category><![CDATA[কলকাতা]]></category>
		<category><![CDATA[জুলফিকার আলি ভুট্টো]]></category>
		<category><![CDATA[টিক্কা খান]]></category>
		<category><![CDATA[পূর্ব পাকিস্তান]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলমান]]></category>
		<category><![CDATA[লন্ডন]]></category>
		<category><![CDATA[শান্তি কমিটি]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ মুজিবুর রহমান]]></category>
		<category><![CDATA[হিন্দু]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.genocidebangladesh.org/?p=393</guid>

					<description><![CDATA[সুনন্দ দত্ত-রায় দি অবজারভার ১৩ জুন, ১৯৭১ অনুবাদ: ফাহমিদুল হক পূর্ব-পাকিস্তান জুড়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সৈন্যরা যেভাবে দেশটিকে জনমানুষশূন্য করে তুলেছে তা দেখে যেকেউ হতাশ হবে। দেশবিভাগের পর থেকে এই মুসলিম দেশে এক কোটি হিন্দু আশা নিয়ে বেঁচে ছিল এবং এরপর ২৩ বছর ধরে অবিচার ও নিবর্তন ভোগ করেছে, এরপর সবশেষে তারা বুঝতে পেরেছে তাদের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><em>সুনন্দ দত্ত-রায়</em></p>
<p><strong>দি অবজারভার ১৩ জুন, ১৯৭১</strong></p>
<p>অনুবাদ: <a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/fahmidulhaqblog/28818239">ফাহমিদুল হক</a></p>
<p>পূর্ব-পাকিস্তান জুড়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সৈন্যরা যেভাবে দেশটিকে জনমানুষশূন্য করে তুলেছে তা দেখে যেকেউ হতাশ হবে। দেশবিভাগের পর থেকে এই মুসলিম দেশে এক কোটি হিন্দু আশা নিয়ে বেঁচে ছিল এবং এরপর ২৩ বছর ধরে অবিচার ও নিবর্তন ভোগ করেছে, এরপর সবশেষে তারা বুঝতে পেরেছে তাদের একমাত্র আশার প্রতিফলন ভারতেই রয়েছে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এই গণদেশত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত ষাট লাখেরও বেশি মানুষ চলে গিয়েছে। কিছু লোক গিয়েছে সাম্প্রদায়িক ভাবনা থেকে তাদের মহিলাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। বাকিরা গিয়েছে চাকরি হারানোর পরে, জায়গাজমি খোয়ানোর পরে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলেও হাজার হাজার লোক চলে গিয়েছে; অন্যান্যরা ভারতে চলে গিয়েছে কারণ জীবনের অনিশ্চয়তার ভার তারা আর বইতে পারেনি।</p>
<p>গত বছরের কোনো এক সময়ে পূর্ববাংলায় এখনও অবস্থানরত হিন্দুরা আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবের দেয়া প্রতিশ্র“তি অনুসারে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান জীবনের দাবিতে মিছিল করেছে। শেখ মুজিব ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল এবং বর্তমানে জেলে বন্দি আছেন। কিন্তু পাকিস্তানী সৈন্যকে নির্দেশ দেয়া হলো শেখকে শেষ করে দেবার জন্য, সৈন্যদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক যারা আছে, তাদেরও কট্টর হতে উৎসাহিত করা হয়েছে।</p>
<p>কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ-মিশনের (পূর্ব পাকিস্তান-মিশন) প্রধান হোসেন আলি বলেন সামরিক শাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান তার অফিসারদের ডেকে নিয়ে হিন্দু লোকজনকে হত্যা করার জন্য ও হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করার জন্য ও তাদের ফসল নষ্ট করে দেবার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরকম নির্দেশ দেয়া হোক বা না হোক, সৈন্যদের কাজকারবার দেখে মনে হয় তেমনই কিছু বলা হয়েছে। কিন্তু যে দেশে হিন্দু ও মুসলমানরা একই পোশাক পরিধান করে, একই খাবার খায়, একই উপভাষায় কথা বলে, বেসামরিক লোকদের সাহায্য ছাড়া ঐ নির্দেশ পালন করা সম্ভব ছিল না।</p>
<p>পূর্ব-বাংলায় ‘স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনা’র জন্য গঠিত ‘শান্তি-কমিটি’ এখন কাজগুলো করছে। লিফলেট দিয়ে এবং লাউড-স্পিকারের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের আহ্বান করছে হিন্দুদের তাড়িয়ে দিয়ে তাদের সম্পত্তি দখল করার জন্য। আওয়ামী লীগের মুসলমানরা ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শান্তি রক্ষার কাজে যোগ দিতে পারে এবং দেশে থেকে যেতে পারে। যেসব হিন্দুরা আওয়ামী লীগকে গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়েছে তাদের অবশ্যই চলে যেতে হবে। ফলে ২৫ মার্চের পর থেকে ৪০ লাখ হিন্দু উদ্বাস্তু সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গিয়েছে। যদি পাকিস্তানী সৈন্যরা পূর্ব বাংলা ছেড়ে চলেও যায়, হিন্দুরা আর ফিরতে চাইবে না। অন্যদিকে ভারতকে বাকি ষাট লাখ হিন্দুকে, যারা এখনও পূর্ববঙ্গে রয়েছে ও তাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তাদের গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।</p>
<p>শেখ মুজিবের বাংলাদেশ-আন্দোলনের সময় দু’ধরনের হিন্দু পূর্ববাংলায় ছিল। তাদের একদল ছিল পেশাজীবী লোকজন যাদের জীবন সম্পর্কে পরিকল্পনা ছিল এবং মুহূর্তের নোটিশে দেশত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল। অন্যদল ছিল কৃষকরা যাদের এখন বাধ্য হয়ে যেতে হবে। সফল আইনজীবীরা বাঁশের চাটাইয়ের বা টিনের তৈরী ঘরে থাকতো। ডাক্তাররা নড়বড়ে ঘরে প্র্যাকটিস করতো। তাদের জীবন, ছেলেমেয়ে ও অর্থ সবকিছু নিরাপত্তার জন্য ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হতো। অন্য হিন্দুরা ছিল কৃষক, কামার, জেলে, তাঁতি এবং এরা সবাই নিুবর্ণের হিন্দু ছিল।</p>
<p>বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত একজন ফেরারী মধ্যবিত্ত হলেন চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার ডিজাইন সেন্টারের প্রধান। তিনি নিশ্চিত যে ইয়াহিয়া খানের উদ্দেশ্য ছিল দুই ধর্মের মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলন শেষ করে দেয়া, পুরোপুরি রাজনৈতিক একটি ব্যাপারকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং ভারতীয় মুসলমানদের ওপর পাল্টা আঘাত হানাকে উসকে দেয়া। এধরনের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত সৃষ্টি হতে দেখে বিশ্বের হয়তো সামরিক শাসনের প্রকৃত নিপীড়নমূলক ভূমিকা থেকে দৃষ্টি সরে যাবে।</p>
<p>এই পরিকল্পনা হয়তো ভালোভাবে বাস্তবায়িত হতো যদি না হিন্দু উদ্বাস্তুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে নিঃশেষ না হয়ে যেতো। এরপরও ভারতীয় সীমান্ত-শহর বারাসাত ও বসিরহাটে কিছু সাম্প্রদায়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পুলিশের একটি শক্তিশালি দল হিন্দু উদ্বাস্তুদের নিবৃত্ত করতে পেরেছিল। তারা বর্শা, ছুরি, লাঠি হাতে মুর্শিদাবাদ থেকে এখানকার মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করতে এসেছিল। একজন উদ্বাস্তু বলল, “শান্তি-কমিটির লোকজন আমাদের বলেছে ভারতে চলে যেতে কারণ এখানেই নাকি আমাদের সবার জন্য খাদ্য ও জমি আছে। এখন আমরা এখানে মুসলমানদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলব”।</p>
<p>এরমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বের শহর সিলেটে হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়িগুলো স্থানীয় মুসলমানরা ন্যূনতম মূল্যে নিলামে তুলেছে। এমনকি ঢাকায় পরিত্যক্ত বাড়িগুলো বণ্টনের একটি আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে। ইয়াহিয়া খানের সরকারের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে ধানী জমি বণ্টন করা হয়েছে। এপরিস্থিতিতে নিরাপদে দেশে ফিরে যাবার জন্য ইয়াহিয়ার প্রস্তাব উদ্বাস্তুদের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন।</p>
<p>হাসান মনে করেন পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম দালালরা বাঙালি নয়। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রি নূরুল আমিন পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর গুরুত্বপূর্ণ অনুসারী। কিন্তু তিনিও সামরিক শাসকদের অধীনে পুতুল সরকারের প্রধান হতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই প্রত্যাখান অন্তঃত একটি ভুয়া গণতান্ত্রিক সরকারের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেয় এবং সামরিক শাসন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। ইয়াহিয়া খানের শাসনের প্রতি কেবল মুসলিম লীগ (যারা সবসময় সামরিক শাসনকে সমর্থন করে এসেছে) এবং কট্টর ইসলামী দল জামায়াত-ই-ইসলামী ও নিজামী-ই-ইসলাম-এর লোকজনের আনুগত্য আছে। একত্রে তারা সারা দেশের ১৯ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র শতকরা পাঁচ জন বাঙালি। বাকিরা হলো বিহারি মুসলমান &#8212; যারা দেশভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তানে গিয়েছিল এবং পাঞ্জাবী &#8212; অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য যারা পূর্ব-পাকিস্তানে গিয়েছিল।</p>
<p>এরকম কিছু ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায় যেখানে বাঙালি মুসলমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হিন্দুদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এধরনের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে ফিরে যাবার জন্য খুব কমই আশা জাগায়। আমি বিশ্বাস করতে প্রস্তুত আছি যে শেখ মুজিব সাড়ে ছয় কোটি মুসলমান ও এক কোটি হিন্দুদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব ও উদারতার কারণে হিন্দু জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছিল। প্রাদেশিক পরিষদের জন্য আওয়ামী লীগের টিকেটে এগারো জন হিন্দু নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে-পরিষদ অবশ্য সামরিক শাসকরা বাস্তবায়িত হতে দেয় নি।</p>
<p>পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিমাঞ্চলের জেলা পাবনার জেলাপ্রশাসক আমাকে যা বললেন হিন্দুদের জন্য তা এরচাইতেও আশাপ্রদ ব্যাপার ছিল। জেলাপ্রশাসকের নাম নূরুল কাদের, তিনি কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের অর্থনীতির গ্র্যাজুয়েট। ডিসেম্বরের নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে তিনি এক হিন্দুর কিছু জমিজমা বিক্রির ব্যাপারে কাজ করছিলেন। লোকটি পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে যেতে চাইছিল। কিন্তু যখন শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করলেন তখন লোকটি দেশে থেকে যেতে চাইলো এবং কেমব্রিজের তরুণটি এখন নির্বাসিত বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি সচিবলায় সংগঠিত করার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু এই সরকারের একটি জাতীয় পরিচয় ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু এই সরকারের কোনো নেতার শেখ মুজিবের মতো কারিশমা নেই। কিন্তু কাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে পুনরায় মতৈক্যের কোনো সম্ভাবনা নেই। হত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ গভীর দাগ ফেলে গেছে। আর এইসব অপরাধের সঙ্গে ব্যাপকমাত্রায় যুক্ত হয়েছে যৌন হয়রানির ঘটনা। কাদের জানালেন যে, এমনকি উচ্চমধ্যবিত্তের মেয়েদের ক্যান্টনমেন্টের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।</p>
<p>একজন দাড়িওয়ালা ট্রাভেল-এজেন্ট যুবক, যিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন, তিনি জানালেন, “সেনাবাহিনীর আক্রমণের পূর্বে মাত্র ১৫ শতাংশ লোক স্বাধীন বাংলাদেশ চেয়েছিল। এখন মাত্র ১৫ শতাংশ পশ্চিম-পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো প্রকার যৌথতার ব্যাপারে সায় দেবে”। কিন্তু যদি একত্রিত পাকিস্তানের আর কোনো সম্ভাবনা না থাকে, পূর্ব বাংলার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অনেক সময় লাগবে। প্রথম প্রতিরোধ শক্ত হাতে দমন করা হয়েছে। প্রথম প্রতিরোধটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, বিচ্ছিন্ন এবং কেবল আবেগগত তাড়না থেকে পরিচালিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত টেকে নি। এতে অনেক ভুল ছিল; এটা ছিল অতিমাত্রায় আশাবাদযুক্ত। বাঙালিরা ভেবেছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অভ্যস্ত পরোক্ষ অবাধ্যতার মাধ্যমেই পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের কঠোর সৈন্য ও নিষ্ঠুর অফিসারদের মোকাবেলা করবে।</p>
<p>দ্বিতীয় পর্বের প্রতিরোধ এখন শুরু হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, পূর্ব-পাকিস্তান রাইফেলস্ ও পুলিশ বাহিনীর ২০,০০০ সৈনিক একক নেতৃত্বের অধীনে কাজ করছে। ৮,০০০ কিশোর-তরুণ গেরিলা যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিচ্ছে। দালালদের শেষ করার জন্য কিলার স্কোয়াড গঠিত হয়েছে। একজন বাংলাদেশী নেতা আমাকে বললেন তিনি সাফল্যের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ “যদি আমরা আমাদের জন্য কাজ করি’’। এর মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের জন্য কোনো বিদেশী সাহায্যের জন্য অস্বীকৃতি জানালেন। বর্তমানে পূর্বাংশে চার ডিভিশন পাকিস্তানি সৈন্যর জন্য প্রতিদিন এক কোটি রুপি ব্যয় হচ্ছে। পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক চাপ নিঃসন্দেহে পাকিস্তানী সৈন্যদের জোর কমিয়ে দেবে, কারণ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ২,৫০০ মাইল পাড়ি দিয়ে সৈন্যদের জন্য ৩০০ টনের সরবরাহ প্রতিদিন আনতে হচ্ছে।</p>
<p>বাংলাদেশের আন্দোলনকারীরা একটু আশাবাদী হতে পারে এজন্য যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ কেবল পূর্ব পাকিস্তানে আর সীমাবদ্ধ নেই, পশ্চিম পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বিশিষ্ট পাঠান-নেতা ওয়ালি খানের কথা উল্লেখ করা যায়। মি. ভুট্টো সেনাবাহিনীকে বলছেন রাজনৈতিক সমস্যা রাজনীতিবিদদের সমাধান করতে হবে এবং তিনি শিগগীরই ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলে আসছেন। পশ্চিম পাকিস্তানের কুখ্যাত ২১ ধনী পরিবারের লোকজন ঠিকই বুঝতে পারছে পূর্ব পাকিস্তানের বাজার হারিয়ে ফেললে কী বিপদ হবে। ইয়াহিয়া খান এখন বুঝতে পারছেন, পশ্চিমের প্রভাবশালী লোকজন এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে পূর্বের যেকোনো সময়ের মতো কঠোর হয়ে উঠবে। রাষ্ট্রপতি হয়তো দমননীতির চূড়ান্ত পর্যায় পার হয়ে এসেছেন। ঢাকায় উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি একসময় যে-সমাধানের কথা বলেছিল, ইয়াহিয়ার কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তিনি সেদিকেই যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যাপার হলো ঢাকা এখন আর সেকথা শুনবে না।</p>
<p>কিন্তু একদিন যদি বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়ও, পাকিস্তান সেনাবাহিনী-সৃষ্ট সফল সাম্প্রদায়িক পারিস্থিতি ও বাঙালি হিন্দুদের ব্যাপকমাত্রায় প্রস্থান, বাংলাদেশকে একটি কেবল মুসলমানের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এমনকি এখনকার তাজউদ্দীনের মন্ত্রিসভায় কোনো হিন্দু সদস্য নেই। এবং বাংলাদেশের জন্য ভারতীয়দের ব্যাপক সহানুভূতি সত্ত্বেও, এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার যে যেসব হিন্দু কয়েক বছর আগে ভারতে বসতিস্থাপনের জন্য গিয়েছিল তারা বাংলাদেশের জন্য কোনোরকম সহযোগিতা প্রদানের বিরোধী।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">393</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাঙালি বিদ্রোহীরা ঢাকায় নৃশংসতার প্রমাণাদি জাতিসংঘে পাঠাচ্ছেন</title>
		<link>https://www.genocidebangladesh.org/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a7%9f/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Webmaster]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 21 Jun 2008 20:53:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Newspaper/Magazine Articles]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা আর্কাইভ]]></category>
		<category><![CDATA[টিক্কা খান]]></category>
		<category><![CDATA[পাকিস্তানী]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.genocidebangladesh.org/?p=375</guid>

					<description><![CDATA[দি টাইমস, ২ জুন, ১৯৭১ পিটার হ্যজেলহার্স্ট অনুবাদ: ফাহমিদুল হক বাঙালিদের দাবিয়ে রাখার জন্য একটি সুপরিকল্পিতভাবে ভীতি-প্রদর্শনের জন্যই যে ২৬শে মার্চে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঢাকায় অপারশেন চালিয়েছিল, সেব্যাপরে এখন যথেষ্ট প্রমাণাদি পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্রোহীদের দমন করতেই কেবল অপারেশনটি চালানো হয়েছিল, কারণ তারা সশস্ত্র-প্রতিরোধ করেছিল &#8212; পাকিস্তান-সরকার এই দাবিও তাতে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। প্রমাণটি হল আক্রমণের প্রাথমিক [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>দি টাইমস, ২ জুন, ১৯৭১ </strong></p>
<p><em>পিটার হ্যজেলহার্স্ট</em></p>
<p><strong>অনুবাদ:</strong> <a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/fahmidulhaqblog/28806767">ফাহমিদুল হক</a></p>
<p>বাঙালিদের দাবিয়ে রাখার জন্য একটি সুপরিকল্পিতভাবে ভীতি-প্রদর্শনের জন্যই যে ২৬শে মার্চে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঢাকায় অপারশেন চালিয়েছিল, সেব্যাপরে এখন যথেষ্ট প্রমাণাদি পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্রোহীদের দমন করতেই কেবল অপারেশনটি চালানো হয়েছিল, কারণ তারা সশস্ত্র-প্রতিরোধ করেছিল &#8212; পাকিস্তান-সরকার এই দাবিও তাতে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। প্রমাণটি হল আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সেনা-ইউনিটসমূহের মধ্যে যে বেতার-বার্তা বিনিময় হয়েছিল তার মুদ্রিত কপি। কপিটি এখন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের হাতে রয়েছে এবং তারা তা জাতিসংঘের মহাসচিব ও সব দেশের সরকার-প্রধানদের কাছে পাঠাবেন।</p>
<p>জেনারেল টিক্কা খান-এর কন্ট্রোল, সেনা-সরকার ও আর্মি ইউনিটসমূহের মধ্যে যে-বার্তা-বিনিময় হয়েছিল তার কিছু নমুনা এখানে দেয়া হল।</p>
<p>কন্ট্রোল: ওয়েল ডান। বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃতের সংখ্যা কত হবে বলে তুমি মনে করো?<br />
৮৮: দাঁড়ান। আনুমানিক ৩০০। ওভার।<br />
কন্ট্রোল: ওয়েল ডান। তিনশ মারা গেছে? কেউ আহত হয়েছে বা ধরা পড়েছে? সিটরেপ (সিচুয়েশন রিপোর্ট)। ওভার।<br />
৮৮: আমি কেবল একটা জিনিসেই বিশ্বাস করি &#8212; ৩০০ মারা গেছে। ওভার।<br />
কন্ট্রোল: হ্যাঁ, আমি তোমার সঙ্গে একমত। সেটাই হিসেব করা সহজ। কিছুই জিজ্ঞেস করা হয়নি, কিছুই করা হয়নি। তোমাকে কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করতে হবে না। আবার বলছি, ওয়েল ডান। আমি আবার সব জওয়ানের উদ্দেশ্যে তোমাকে বলছি &#8216;সাবাশ&#8217; &#8230;<br />
৭৭: ৮৮ থেকে সর্বশেষ &#8212; তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সামনে আরো অনেক ভবন আছে যেগুলোকে একে একে ধ্বংস করতে হবে। তার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি, তবে তার বিরুদ্ধে গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। তিনি যা পেয়েছেন তার সবই ব্যবহার করছেন। ওভার।<br />
কন্ট্রোল: তাকে বলো যে, তার বড়ভাইরা (আর্টিলারি-সহায়তা) তাকে সমর্থন করার জন্য দ্রুতই আসছেন আশা করা যায় । সেগুলোকে ভবনগুলো ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এখন অন্যদিকের কথা। আমার মনে হয় লিয়াকত ও ইকবাল (ছাত্রাবাস) এখন শান্ত &#8230;<br />
কন্ট্রোল: বাংলাদেশী পতাকা না কালো পতাকা প্রসঙ্গে ইমামের (কমান্ডিং অফিসার) কাছ থেকে। ভবনের মালিকদের এখনই ঐসব পতাকা সরিয়ে ফেলতে হবে, নয়ত তাদের শাস্তি প্রদান করা হবে। কোনো স্থানে রাস্তা-অবরোধ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব অমান্য করা হলে ঘটনাস্থলেই গুলি করে মারা হবে। বাড়ি ও ভবন এসব ক্ষেত্রে ধ্বংস করা হবে।<br />
৮৮: উইলকো। আর কিছু? ওভার।<br />
কন্ট্রোল: ইমাম এখন ইমাম ২৬-এর সঙ্গে রয়েছে। যদি তোমার কোনো ব্যাপারে কোনো সাহায্য প্রয়োজন হয় তুমি তাকে জানাতে পারো। বাক্সার (ধ্বংস করার স্কোয়াড) সম্পর্কে। তারা তাদের ঘাঁটি থেকে রওয়ানা দিয়েছেন এবং প্রথম আলো দেখা যাবার পরপরই তোমার সামনে পড়া যেকোনা অবরোধ সরাতে তোমাকে সাহায্য করতে পারবে। ওভার।<br />
কন্ট্রোল: পিপলস ডেইলির (ডেইলি পিপল সংবাদপত্র) খবর কী? ওভার।<br />
২৬: বোমা মেরে ধ্বংস করা হয়েছে। আবার বলছি, ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের দু-জন গুরুতর আহত হয়েছে ও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।<br />
কন্ট্রোল: ওদিকে মৃতের আনুমানিক সংখ্যা কত? ওভার।<br />
২৬: না। এই মুহূর্তে নির্ণয় করা কঠিন। স্থানে স্থানে আগুন জ্বলছে এবং সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।<br />
কন্ট্রোল: পুলিশ লাইনে আক্রমণ করেছ? ওভার।<br />
২৬: পুলিশ-লাইনেও আক্রমণ করা হয়েছে। ওভার।<br />
কন্ট্রোল: গুড শো। আউট।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">375</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
