Warning: Creating default object from empty value in /home/genocidebangladesh/genocidebangladesh.org/wp-content/themes/canvas/functions/admin-hooks.php on line 160

যুদ্ধাপরাধের বিচার : বাংলাদেশ এবং জার্মানি : একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা

*অস্ট্রেলিয়া থেকে মোবায়েদুর রহমান*

কিছুদিন আগে একটি মহল থেকে যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবী করা হলো তখন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অবস্খান গ্রহণ করলেন। সেই অবস্খানকে কেন্দ্র করে এই ইস্যুতে একাধিক চিন্তাধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার প্রধান ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ বলেছেন যে, যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যে কেউ চাইতেই পারেন। সকলের জন্যই আইনের দরজা খোলা আছে। যে কোনো ব্যক্তি আইন আদালতে এই বিচার চাইলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ড. ফখরুদ্দীনের এই বক্তব্যের পর ঐ মহল থেকে দাবি করা হয় যে, রাষ্ট্রকে বাদী হয়ে এই মামলা করতে হবে। অর্থাৎ কোন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হবে সেটা ঠিক করবে রাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীসাবুদ এবং প্রমাণপত্রও যোগাড় করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এসব দাবির প্রেক্ষিতে আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সরকারের অবস্খান এ ব্যাপারে আরো পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন যে, সরকারের প্রধান কাজ হলো নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, সরকারের হাতে সময় খুব কম। এই কম সময়ে অন্যান্য কাজ হাতে নিলে মূল কাজ অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সে জন্য সরকার এসব কাজ হাতে নিতে পারবে না। তিনি আরো বলেন যে, নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার আসবে তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে যুদ্ধাপরাধের বিচার সংক্রান্ত ইস্যুটি তারা টেকআপ করবেন কি করবেন না।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা এই ইস্যুতে আইন উপদেষ্টাকে আরো প্রশ্ন করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, বিগত ৩৬ বছরে কেন এই বিচার করা হয়নি? অনেক সরকার এসেছে এবং অনেক সরকার গেছে। কেউ তো এ ব্যাপারে কিছু করেননি। কিন্তু কেউ এই ইস্যুটি টেকআপ করেননি। ৩৬ বছর একাধিক গণতান্ত্রিক সরকার যে কাজটি করেনি সেই কাজটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে করার জন্য আপনারা চাপ দিচ্ছেন কেন? আইন ও তথ্য উপদেষ্টার এসব মন্তব্যের পর এই ইস্যুটি একটু ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দেব মুখার্জী। একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। দু’টি পত্রিকায় তার ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। ঐসব পত্রিকার প্রতিনিধি দেব মুখার্জীর নিকট থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে দেব মুখার্জী বলেন, “এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের যে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী বলে চিহ্নিত সৈন্যকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল সেটা তো তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা না করে এবং তাদের সম্মতি ছাড়া করা হয়নি।” উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান অসংখ্যবার ঘোষণা করেন যে, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে। এজন্য প্রথমে ১৫ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, মিলিশিয়া, রেঞ্জার ও ফন্সান্টিয়ার গার্ড মিলে মোট ৯৩ হাজার নিয়মিত ও অনিয়মিত সৈন্য বুদ্ধিজীবী হিসাবে ভারতের হেফাযতে ভারতে অবস্খান করেছিল। যাই হোক, ১৫ হাজার সৈন্যের বিচার একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে যায়, এই বিবেচনায় তালিকা ছোট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এভাবে ছোট করতে করতে ১৫ হাজারের স্খানে ১৯৫ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের দায়ে এই ১৯৫ জনের বিচার করাও সম্ভব হয়নি। বাবু দেব মুখার্জীর বক্তব্য অনুযায়ী এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত পাক সেনাসহ ঐ ৯৩ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধাবন্দীকে বাংলাদেশের সম্মতিক্রমে ভারত পাকিস্তানে ফেরত পাঠায়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী, ফন্সন্টিয়ার গার্ড, রেঞ্জার এবং বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্খ পাকিস্তানী অফিসারদের সকলেই নিরাপদে পাকিস্তান ফেরত যাওয়ার পর দেশে পড়ে রইলো কারা? রইলো তারা, যারা মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কাটিয়েছেন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে। এরাই সেই হতভাগ্য মানুষ, যাদেরকে পরলোকগত সাংবাদিক জনাব এনায়েতুল্লাহ খান ব্যথিত হৃদয়ে বলেছেন, “সিক্সটি ফাইভ মিলিয়ন কোলাবরেটরস।” অর্থাৎ, সাড়ে ছয় কোটি দালাল।”

সাড়ে ছয় কোটি দালাল

উপরোক্ত শিরোনামের লেখাটি মরহুম এনায়েতুল্লা খান সাপ্তাহিক ‘হলিডে’তে ১৯৭৩ সালে স্বনামে লিখেছিলেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলাদেশের একটি চিহ্নিত মহল দেশ প্রেমের সোল এজেন্সি নিয়েছেন। কথায় কথায় তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিশেষ করে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ১৯৭৩ সালে ‘হলিডে’ সম্পাদক আলোচ্য নিবìেধ তাদেরকে ‘নব্য দেশপ্রেমিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। ওরা স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই প্রতিপক্ষের দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করছেন। আজও তারা হিংসাত্মক ও উস্কানিমূলক ভাষায় সেই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর আবদুল আলিম, আবদুল আহাদ, আবদুল লতিফ, ফেরদৌসি রহমান প্রমুখ স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পীকে রেডিও এবং টিভির কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তখন মরহুম এনায়েতুল্লা খান ঐ নিবìধটি লেখেন। তিনি বলেন, অকুপেশন পিরিয়ডে অনেক কণ্ঠশিল্পী রেডিও এবং টিভিতে কণ্ঠদান করেন। এজন্য তাদেরকে ‘দখলদার বাহিনীর দালাল’ হিসাবে রেডিও এবং টিভিতে নিষিদ্ধ করা হয়। “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কতিপয় ব্যক্তির এই স্বৈরাচারী (হাইহ্যাণ্ডেডেডনেস) পদক্ষেপ অনেককে আহত করে। এই কাজ এবং এই ধরনের আরো কিছু কাজের ফলে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন তারা এবং নয়মাসের ত্রাসের রাজত্বে যারা দেশে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আস্খার সঙ্কট সৃষ্টি হয়।’ জনাব এনায়েতুল্লা খান খান বলেন, “দেশের অভ্যন্তরে থেকে যারা ঐ যন্ত্রণাদায়ক নয় মাসে অফিসে হাজির হয়ে যেমন কেউ দালাল হয়ে যায় না, তেমনি শুধুমাত্র সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কেউ পূর্ববর্তী ২৪ বছরের দোষ স্খলন করতে পারে না। এ দেশে দখলদারিত্বের সাথে যদি দালালদের সংখ্যা প্রচুর হতো তাহলে দখলদার সরকারকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পুলিশ, আমলা এবং টিভি ও রেডিও শিল্পী আমদানি করতে হতো না। এরপর জনাব খান বলেন, সেই দু:সাহসিক কথা, একটি কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা দরকার। বাধ্য হয়ে অফিস আদালত করা, স্কুল কলেজে যাওয়া, কোনরূপ তদ্বির না করেই ইয়াহিয়া খানের প্রশংসাপত্র পাওয়া, রেডিও টিভিতে কণ্ঠদান কোনোভাবেই দালালী নয়। যদি তাই হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধকালে যে সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা সকলেই দালাল এবং দালাল হওয়ার জন্য তারা গর্বিত। ঐ নয় মাসে সমগ্র বাংলাদেশ ছিল একটি বিশাল ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ সকলকে কাজ করতে হতো শৃঙ্খলিত দাসের মত। প্রতিটি মুহূর্ত তারা মৃত্যুভয়ে কাটিয়েছেন।”
এই ছিল এনায়েতুল্লাহ খানের লেখার সংক্ষিপ্তসার। সীমান্ত পারের নিরাপদ আস্তানা থেকে ফিরে এসে যারা দালাল বা যুদ্ধাপরাধী খুঁজে ফিরেছেন এবং ৩৬ বছর পরও খুঁজে ফিরছেন তাদেরকে জনাব খানের এই পটভূমি বিবেচনা করতে হবে।

নুরেমবার্গ বিচার এবং এ দেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সপক্ষে যখন তখন জার্মানির নুরেমবার্গ ট্রয়ালের উদাহরণ দেওয়া হয়। বলা হয় যে, ৫০ বছর পর যদি হিটলারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে পারে তাহলে ৩৬ বছর পর বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে পারবে না কেন? এ ধরনের কথা কি অজ্ঞতা? নাকি ইচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃতি? ইতিহাস সম্পর্কে যাদের ক. খ. গ. জ্ঞানও আছে তারাও বিলক্ষণ জানেন যে, ১৯৩৯ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৪৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। যুদ্ধ শেষের মাত্র ১ মাস ২০ দিন পর ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে জার্মানির নুরেমবার্গ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়। ১৯৪৬ সালের ১লা অক্টোবর এই বিচার শেষ হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ৫০ বছর পরে নয়, মাত্র ১ মাস ২০ দিন পর এই বিচার শুরু হয়।

নুরেমবার্গে কাদের বিচার হয়েছিল?

যুদ্ধাপরাধী হিসাবে নুরেমবার্গে যাদের বিচার হয়েছিল তারা কারা? কোন ধরনের কোর্টে তাদের বিচার হয়েছিল? সম্মানিত পাঠক ভাইদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, ৬টি সরকারি সংস্খা এবং ২৪ জন উচ্চ পদস্খ সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রণয়ন করা হয়। যেসব সংস্খার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় সেগুলো হচ্ছে (১) হিটলারের মন্ত্রিসভা, (২) নাৎসী দলের শীর্ষ নেতৃমণ্ডলী (৩) এসএস বা দলীয় পুলিশ ও এসডি (নিরাপত্তা পুলিশ) (৪) গেস্টাপো (৫) দি এসএ এবং (৬) সেনাবাহিনী এবং জেনারেল স্টাফের হাইকমান্ড। যে ২৪ ব্যক্তিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, হেড অব চ্যান্সেলারী মার্টিন বোরম্যান, এ্যাডমিরাল অব দি ফ্লিট এবং হিটলারের মনোনীত উত্তরাধিকারী ডেনিজ কার্ল, অধিকৃত পোল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল ফ্রাঙ্ক ফন্সান্স, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিন্সক উইহ্যহেন, প্রুশিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেবম্যান গোরিং, মিলিটারী কমান্ডের প্রধান এবং হিটলারের কৌশলগত উপদেষ্টা আলফেন্সড জড্ল্, নিরাপত্তা পুলিশের প্রধান আরনেস্ট ক্যালটান রুনার, সেনাবাহিনীর ফিল্ড মার্শাল উইলহ্যাম কেউটেল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভন রিবেনট্রপ, অধিকৃত এলাকাসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনফেন্সড রোজেনবার্গ, শ্রমিকদের সংগঠক ফিন্সটজ সকেল অধিকৃত নেদারল্যান্ডের কমিশনার আর্থার ইনকোয়াট, সেমিটিক বিরোধী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়াস ট্রিচার প্রমুখ।
নুরেমবার্গ বিচারের আদালত গঠিত হয় তৎকালীন ৪টি বৃহৎশক্তি হতে গৃহীত তিনজন করে প্রতিনিধি নিয়ে। এরা হলেন একজন বিচারপতি, একজন বিকল্প বিচারপতি এবং একজন প্রসিকিউটর। এভাবে আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইংল্যান্ড এবং ফন্সান্স প্রতিটি দেশের তিনজন করে প্রতিনিধি নিয়ে মোট ১২ সদস্য বিশিষ্ট আদালত গঠিত হয়। আদালতের নাম দেয়া হয় ‘আন্তর্জাতিক মিলিটারী ট্রাইব্যুনাল’ আমেরিকার তরফ থেকে মার্কিন সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবার্ট জ্যাকসনকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান আমেরিকার তরফ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মনোনীত করেন।

নুরেমবার্গ ট্রায়ালের পাশাপাশি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিদাররা কি বলছেন? যারা মূল অপরাধী অর্থাৎ পাকবাহিনী, তারা সকলেই সহি সালামতে দেশে ফিরে গেছেন। নুরেমবার্গে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় সেগুলো ছিল সরকারি পুলিশ সংস্খা, সরকারি গোয়েন্দা সংস্খা, মিলিটারীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, হিটলারের মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য ইত্যাদি। কিন্তু বাংলাদেশে সেখানে পুলিশ, মিলিটারী বা ৯ মাসের মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের উল্লেখ নেই, নুরেমবার্গ ট্রায়ালে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রধানকে আসামী করা হয়েছিল। ৩৬ বছর পর বাংলাদেশে পাক আর্মির কোন সদস্যকে দূরের কথা, একজন সিপাহীর বিচার করাও সম্ভব নয়। নুরেমবার্গে দুই লক্ষ এফিডেভিট পর্যালোচনা করা হয় এফিডেভিট এক হাজার ব্যক্তির টেস্টিমোনি গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশে যাদের বিচারের কথা বলা হচ্ছে তারা নুরেমবার্গ ট্রায়ালের কোন ক্যাটাগরিতেই পড়েন না। তাহলে আওয়ামী ও বাম ঘরানা যুদ্ধাপরাধের নামে কাদের বিচার করতে চান? কিভাবে বিচার করতে চান?

No comments yet.

Leave a Reply